সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১১

সিরাজগঞ্জ জেলার ইতিহাস



প্রাচীন কাল

সপ্তম শতাব্দীর পর থেকেই ময়মনসিংহের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল অর্থাৎ সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, ফরিদপুর বছরের প্রায় আট/নয় মাস পানির নিচে থাকতো। ফলে জনবসতি ছিল কম। এ অঞ্চল থেকে পানি সাগরের দিকে নেমে গেলে বছরের চার পাঁচ মাস সময়ে পাশ্ববর্তী কায়েম অঞ্চল থেকে লোকজন আবাদ বসত চালু রাখার জন্য ভীড় জমাতো। সেই শুকনো মৌসুমে কতিপয় মেহনতি মানুষ একতাবদ্ধ হয়ে পরবর্তী বছরে প্লাবনের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য জাংগাল (বাঁধ) তৈরী করত। ফলে জাংগালের মধ্যকার জলাভূমি কিছুকালের মধ্যেই কায়েমী অঞ্চলের আকার ধারণ করত। ধারণা করা হয় সমূদ্রতট থেকে সমতট শব্দটির উৎপত্তি। চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এর সঙ্গে প্রায়ই ঐক্যমতে ডাঃ কালিদাস নাগ, পিএইচডি তদানিন্তন বঙ্গের পূর্বের নিম্নাঞ্চলকে অর্থাৎ পূর্ব বঙ্গের প্রায় অংশকেই সমতট বলে আখ্যা দিয়েছেন। ময়মনসিংহের অধিকাংশ এলাকাই এই সমতটের অন্তর্গত সমতল ভূমি। শশাঙ্ক ৬১৯ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত বঙ্গদেশে রাজত্ব করেন, জ্ঞান সমগ্র আর্য্যবর্তে বাঙ্গালীদের সম্রাজ্য স্থাপনের স্বপ্ন দেখেন এবং আংশিক সে স্বপ্নকে সফল করেন (R.C. Mojuccedu Bangladesher Itihash-P-31)। পরবর্তী যুগে বাঙ্গালী বংশোদ্ভুত শেরশাহের পুত্র সলিম শাহ শের শাহের মৃত্যুর পর জালাল উদ্দিন খাঁ সলিম শাহ নাম ধারণ পূর্বক দিল্লীর মসনদে আরোহন করেন। তিনিই একমাত্র বাঙালী যিনি দিল্লির মসনদে শেরশাহের পুত্র রূপে আরোহণ করে আট বৎসর রাজত্ব করেন (১৫৪৫-১৫৫৩ খৃঃ)। তিনি পাবনা জেলার চাইমোহর থানার অন্তর্গত সমাজ নামক গ্রামে জন্মলাভ করেন ও প্রতিপালিত হন এবং পরে দিল্লী গমন করে পিতার সহিত মিলিত হন ও শাহী মসনদে আরোহন করেন। পাল রাজাগণের সময় এ অঞ্চলের শাসকদের লাট, চাট, ভাট ইত্যাদি পদ দেয়া হত। সম্ভবত এই ভাট হইতেই বঙ্গদেশের যমুনা নদীর ও রাজমহলের নিম্নেদেশ - পাবনা ও ফরিদপুর অঞ্চল ভাটের দেশ বলে পরিচিত। পাবনা জেলা ও তৎকালে সিরাজগঞ্জ মহকুমায় যে বিরাট চলনবিলের অস্তিত্ব বর্তমান তা দৃষ্টে ও পাবনা জেলার ইতিহাস (রাধা রমন সাহা-১-৩ খন্ড), অধ্যাপক আব্দুল হামিদ এর চলনবিলের ইতিকথা ও প্রমথবিশীর চলনবিল গ্রন্থে যে ঐতিহাসিক বর্ণনা বিভিন্ন ভাবে পাওয়া যায়, তৎসঙ্গে হজরত শাহ জালাল (রঃ) জীবনী গ্রন্থ (কৃত চৌধুরী গোলাম আকবর) এর খন্দকার আব্দুর রহিম সাহেবের টাঙ্গাইলের ইতিহাস এবং করটিয়া খান পন্নী সাহেবের নিজস্ব ইতিহাস পাঠে জানা যায় যে রাজমহল পাহাড় হতে টাঙ্গাইলের দক্ষিণে আটিয়া গ্রামের পশ্চিম পাশের লৌহজং নদী পর্যন্ত বিশাল জলধিতল ছিল (আটিয়া শাহী মসজিদ লৌহজং নদীর পূর্বতীরে প্রতিষ্ঠাকাল ১৬০৯)। সম্রাট আকবরের রাজত্ব কালে কাগমারীর দরবেশ হযরত শাহ জালাল (রঃ) এবং তার মামা শাহানশাহ হযরত বাবা আদম (রঃ) কাশ্মিরী এ অঞ্চলে আগমন ও ইসলাম প্রচার করেন। তাঁদের জীবনীতেই বিশাল জলধির মধ্যে চর জাতীয় প্রাচীন ভূমির উল্লেখ পাওয়া যায়। অনুরূপভাবে শাহজাদপুরে হযরত শাহদৌলা মখদুম (রঃ) সিরাজগঞ্জে হযরত শাহ সিরাজউদ্দিন, নওগাঁতে দাদাপীর, রাজশাহী জেলার বাঘাতে শাহাদৌলা জামী দানেশমন্দ (রঃ) এবং চর মধ্যাহ্ন দ্বীপে বারুহাস ইমামবাড়ী পীর সাহেবের আগমন ঘটে।

মধ্য যুগ

১১৯৩ খৃষ্টাব্দে কুতুব উদ্দিন আইবেক দিল্লী জয় করেন। কুতুব উদ্দিন তার অনুচর ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজিকে বাংলা ও বিহার জয় করার জন্য প্রেরণ করেন। ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি ১২০৪ খৃষ্টাব্দে বাংলা জয় করেন ও এ অঞ্চল মুসলিম শাসকদের অধীনে আসে। এদেশে মুসলিম বিজয়ের ১৪০ বছর পর ইবনে বতুতার সফর নামা এবং ২০০ বছর পর মাহুয়ানের বিবরণ এই দুটো মিলিয়ে দেখলে আমরা খুব সহজেই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, মুসলিম বিজয়ের ১৫০ বছরের মধ্যেই সিরাজগঞ্জের অধিবাসীদের জীবনে ইসলাম একটা অপ্রতিরোধ্য ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে এবং ২০০ বছরের মধ্যে অর্থাৎ যখন চৈনিক দূত মাহুয়ান এদেশে সফর করেন, তখন সিরাজগঞ্জের জনসাধারণের অধিকাংশ ইসলাম ধর্মের অনুসারী ছিল। মাহুয়ানের সফরের সময় সিরাজগঞ্জ তথা ভাটি অঞ্চলের জনসাধারণ তখন কেবল মুসলমান হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল তাই নয়, বরং স্বাধীন গোষ্ঠি হিসেবে সারা বিশ্বে বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। এ অঞ্চলের জনসাধারণ তখন মিথ্যা ও ছলচাতুরীর আশ্রয় নিতে জানত না। এভাবেই তারা ১৫৩৮ সাল পর্যন্ত স্বাধীনভাবেই বসবাস করছিল। ১৫৩৮ সালে মোঘল বাদশা হুমায়ূন গৌড় দখল করেন (সেপ্টেম্বর ১৫৩৮ খৃষ্টাব্দ)। গৌড়ের সুরম্য প্রাসাদাবলী ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে বাদশা হুমায়ূন খুবই মুগ্ধ হন এবং তিনি এর নাম রাখেন জান্নাতাবাদ।

মুঘল আমল


মুঘল আমলে (১৫৩৮-১৭৪০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত) সুবা বাংলাকে প্রশাসনিক সুবিধার্থে ১৯টি সরকারে এবং ৬৮২টি পরগণায় বিভক্ত করা হয়েছিল। সেই সরকার গুলির মধ্যে ‘সরকার বাজুহা’ আকার আয়তনে ছিল অনেক বড়। তৎকালে সরকার বাজুহাকে প্রশাসনিক সুবিধার্থে ৩২ টি মহলে বিভক্ত করে। সে সময় সরকার বাজুহা মোট রাজস্ব ছিল ৩৫,১৬,৮৭১ দাম যা টাকার হিসেবে ৯,৮৭,৯২১ টাকা (১ টাকা = ৪০ দাম)। সিরাজগঞ্জ জেলাটি সেই সরকার বাজুহার অন্তর্গত হলেও ৩২টি মহলের কোনটির মধ্যে অবস্থিত সেটা ধারণা করা কঠিন। ‘‘সরকার বাজুহার’’ মধ্যে আমাদের অতি পরিচিত মোমেনশাহী, ভাওয়াল বাজু ও ঢাকা বাজু উল্লেখ আছে। কিন্তু সিরাজগঞ্জ নামে আমরা কোন মহলের নাম দেখি না। সিরাজগঞ্জ যে সরকার বাজুহার মধ্যকার একটি এলাকা এ সম্বন্ধে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। ঢাকার কিছু এলাকা এবং ভাওয়ালগড় সহ বৃহত্তর মোমেনশাহী জেলার সমগ্র এলাকাই ছিল সরকার বাজুহার অন্তর্গত। ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, ১৮৪৫ সনের পূর্ব পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ ছিল মোমেনশাহী জেলার অন্তর্গত। ঈশা খানের আমলে সাগরের মতো যমুনা নদীর অথৈ পানি ছুটে চলতো এপার থেকে ওপার দশ বার মাইল জুড়ে। সিরাজগঞ্জ শহরটি যেখানে এখন অবস্থিত, সেখানটিতে জনমানুষের বসতি ছিল না সে আমলে। যমুনা নদীর মাঝি মাল্লারা সেখানে কখনো নৌকা ভিড়াতো না। সে এলাকাটি তখন লোকে বলতো ভুতের দিয়ার। এ নিয়ে রয়েছে বহু জনশ্রুতি। রাত্রি হলেই নাকি হাজারে হাজারে লাখে লাখে ভুত সেই দিয়ারে হাজির হত। যদি কোন নৌকা বিপাকে পড়ে সেই ভুতের দিয়ারের ধার কাছ দিয়ে রাত্রিকালে উজান ভাটি চলতো, তাহলে দেখা যেত নৌকার মাঝি মাল্লা চরনদারদের ঘাড় মটকিয়ে রেখেছে ভুতেরা। তবে এখনো সিরাজগঞ্জ আদি শহরটি যে মৌজাতে অবস্থিত, তার নাম বহাল তবিয়তে ভুতের দিয়ার রূপেই টিকে আছে। বর্তমান জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন এলাকা এবং সদর ভূমি অফিস, পৌরসভা কার্যালয় ভুতের দিয়ার মৌজায় অবস্থিত।

বৃটিশ আমল

বৃটিশ আমলের গোড়ার দিকে বাংলাদেশের ৬৮২টি পরগনাকে জেলা হিসাবে গণ্য করা হয়নি। প্রথমে মুসলিম আমলের প্রশাসনিক কাঠামোকে পরিবর্তন করা হয়েছে। তারপর বাংলাদেশের প্রশাসনিক তাগিদ পূরণের উদ্দেশ্যে সারা দেশের মধ্যে মাত্র ৪/৫জন জেলা কালেক্টর নিয়োগ করা হয়েছে। বৃটিশ আমলের প্রথম দিকে নোয়াখালী, রংপুর, ঢাকা, ও মোমেনশাহী এই চারটি জেলা কালেক্টরেটের সাহায্যে বাংলাদেশের মতো একটি বিশাল দেশ শাসন করা হতো। ১৭৮৬ থেকে ১৭৯৩ সাল পর্যন্ত লর্ড কর্ণওয়ালিসের আমলে সিরাজ আলী চৌধুরী নামে এক সম্ম্ভ্রান্ত জমিদার ছিলেন সোহাগপুরে। ১৭৮৭ সালে মোমেনশাহী জেলা স্থাপিত হয়। এই একই বছরে লর্ড কর্ণওয়ালিসের কাছ থেকে বড় বাজু পরগনার সাত আনা হিস্যা সিরাজ আলী চৌধুরী ‘সিরাজগঞ্জ জমিদারী’ নামে পত্তনী লাভ করেন। কিন্তু বৃটিশ আমলের প্রথম দিকে জমিদারের হাতে যেহেতু প্রশাসনিক ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়নি, সেহেতু সিরাজগঞ্জ ছিল মোমেনশাহী জেলার প্রশাসনিক আওতায়; তখন জামালপুর, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতিও মোমেনশাহী জেলার আওতাধীন ছিল। ১৭৯০ সালে মোমেনশাহী জেলার কালেক্টর সাহেব বিশাল মোমেনশাহী জেলার স্থানে স্থানে থানা স্থাপনের তাগিদে ঢাকা রেভিনিউ বোর্ডের কাছে পরানগঞ্জ, কটিয়াদী, চাঁদগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, জগনাথগঞ্জ, শের মদন, শের দিবার দিয়া, শের মাচরা প্রভৃতি স্থানের প্রস্তাব পেশ করেন। ১৭৯২ সালের মধ্যে সিরাজগঞ্জসহ ঐসব এলাকায় প্রথম বিলেতি প্যাটার্নের থানা স্থাপিত হয়। ১৮৪৫ সালে মোমেনশাহী জেলায় ধরমচান্দ ঘোষ প্রথম ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হয়ে আসেন। ম্যাজিস্ট্রেট মোমেনশাহী জেলার পূর্ব ও পশ্চিম দিকে দুইটি মহকুমা স্থাপনের প্রস্তাব করেন। শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, হাজীপুর ও পিংনাসহ ৪ থানা নিয়ে ১৮৪৫ সালে জামালপুর মহকুমা এবং নিকলী, বাজিতপুর, ফতেপুর ও মাদারগঞ্জ এই ৪ থানা নিয়ে হুসেনপুর বা নিকলী মহকুমা স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়। ১৮৪৫ সালের এপ্রিল মাসে সরকার সিরাজগঞ্জ ও জামালপুর মহকুমা দুইটি স্থাপনের অনুমতি দেন। ফলে ১৮৪৫ সালে বিশাল মোমেনশাহী জেলার অধীনে জামালপুর ও সিরাজগঞ্জ নামে দুইটি মহকুমার সৃষ্টি করা হয়। প্রসঙ্গতঃ বলে রাখা যায়, পরবর্তীকালে মোমেনশাহী জেলাকে বিভক্ত করে ১৮৬৫ সালে কিশোরগঞ্জ, ১৮৬৯ সালে টাংগাইল এবং ১৮৮২ সনে নেত্রকোণা মহকুমা সৃষ্টি করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে ১৮২৮ সালে রাজশাহীর একাংশ নিয়ে পাবনা জেলার পত্তন হয়েছিল। সিরাজগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে ১৮৫৫ সালে যমুনা নদীর গতি পরিবর্তনের কারণে সিরাজগঞ্জ থানাকে পাবনা জেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয় (পাবনা গেজেট পৃষ্ঠা নং ৪৩)। ১৮৭৫ সালে রায়গঞ্জ থানাকে সিরাজগঞ্জ মহকুমার অন্তর্ভুক্ত করে সিরাজগঞ্জের প্রশাসনিক বিস্তৃতি ঘটানো হয়েছিল। ১৯৮৪ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়।


মুক্তিযুদ্ধ ও সিরাজগঞ্জ মহকুমা

মুক্তি সংগ্রাম আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিষ্মরণীয় অধ্যায়। সিরাজগঞ্জের আপামর জনসাধারণ স্বাধীনতার শক্তিতে উজ্জীবিত হয়ে এই সংগ্রামে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের প্রথম ভাগেই স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত, যানবাহন, রেলস্টীমার, মিল কারখানা সব বন্ধ রাখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ঘোষণা দেন ও আওয়ামীলীগ কর্মীবৃন্দ সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন। আওয়ামী সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ছিলেন মরহুম মোতাহার হোসেন তালুকদার এমএলএ এবং সদস্য সচিব ছিলেন জনাব আনোয়ার হোসেন রতু। একই সাথে জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্বে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়, যার আহবায়ক ছিলেন আলমগীর। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে ৩ মার্চ, ১৯৭১ জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তৎকালীন ছাত্র নেতা জনাব এম.এ রউফ পাতা প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।

৮ মার্চ, ১৯৭১ তারিখ হতে আওয়ামী সংগ্রাম পরিষদ এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে কলেজ মাঠ ও স্টেডিয়াম মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাথমিক অস্ত্র প্রশিক্ষণ শুরু হয়। কলেজ মাঠে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আনসার কমান্ডার আব্দুর রহমান, ল্যান্স নায়েক লুৎফর রহমান অরুন এবং রবিউল ইসলাম (গেরিলা)। স্টেডিয়াম মাঠে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী আনসার কমান্ডার বাহাজ আলী, সেনা সদস্য আমজাদ হোসেন ও রাইফেল ক্লাবের সদস্য জহুরুল ইসলাম মিণ্টু ।

পাক বাহিনী যাতে সিরাজগঞ্জে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য শাহজাদপুর উপজেলাধীন বাঘাবাড়ী ফেরীঘাটে স্থানীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক শহীদ শামসুদ্দিন উক্ত প্রতিরোধ যুদ্ধে সার্বিকভাবে অংশ গ্রহণ করেন। এমনকি তিনি অস্ত্রাগার হতে সকল অস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দেন। প্রবল প্রতিরোধের কারণে এক মাস পর ২৬ এপ্রিল সিরাজগঞ্জ শহরে পাক হানাদার বাহিনী প্রবেশ করে। পাক বাহিনী প্রবেশ করেই নির্বিচারে শহরের ঘর-বাড়ী জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেয়, লুটতরাজ করে, নিরীহ জনগনকে হত্যা, ধর্ষণ এবং নির্যাতন করতে থাকে।

পাক সেনারা সিরাজগঞ্জ দখল করার পর মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধারা উচচতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং আধুনিক অস্ত্রের জন্য বিচ্ছিন্নভাবে ভারতে গমন করেন। ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে মুক্তিযোদ্ধাগণ সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েন এবং পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা ও সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হন। উল্লেখযোগ্য যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে যুব শিবিরের নেতৃত্বে ভদ্রঘাট, ব্রক্ষ্মগাছা ও নওগাঁর যুদ্ধ। এ যুদ্ধ উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম যুদ্ধ ছিল। ৭ নং সেক্টরের এফ উইং এর নেতৃত্বে কাজিপুর থানা দখলের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা দুবার থানা আক্রমণ করেন এবং বড়ইতলীতে পাক সেনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ সকল যুদ্ধে বেশ কিছু পাকসেনা হতাহত হয় এবং সাত জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

৭ নং সেক্টরের এফ উইং এর নেতৃত্বে বেলকুচি থানা দখলের জন্য আরও একটি ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং মুক্তিযোদ্ধারা থানার দখল গ্রহণ করে থানার সকল অস্ত্র হেফাজতে নেন এবং ১২ জন রাজাকারকে গ্রেফতার করেন। এতে দুইজন মুক্তিযোদ্ধা আহত হন। বেলকুচির রাজাপুর, শমেসপুর ও কালিয়াহরিপুর ব্রীজে এফএফদের নেতৃত্বে পাক সেনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পলাশডাঙ্গা যুব শিবির, এফএফ ও বিএলএফ এর মুক্তিযোদ্ধাগণ একে একে তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া ও শাহ্জাদপুরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পাক বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে ঐ সকল এলাকা দখল করে নেয়। সবশেষে ১২ ডিসেম্বর ১৯৭১ সিরাজগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাগণের অধিকাংশ দল একত্রে সিরাজগঞ্জ শহরের উত্তরে শৈলাবাড়ি পাক হানাদার ক্যাম্প আক্রমণ করেন। এখানে সিরাজগঞ্জ এর সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে পাক বাহিনী পরাজিত হয়ে পশ্চাদপসরণ করে এবং তারা ব্যাপকভাবে হতাহত হয়। তাছাড়া ইঞ্জিনিয়ার আহসানুল হাবিব ও সোহরাব আলীসহ ছয় জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। অবশেষে মিত্র বাহিনীর কোনরূপ সহায়তা ছাড়াই ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ সিরাজগঞ্জ এর বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ সিরাজগঞ্জ শহরকে এবং ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১ সমগ্র সিরাজগঞ্জকে শত্রুমুক্ত করেন। সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্নস্থানে পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখ ও গেরিলা যুদ্ধে যে সকল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা  নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো  মরহুম মোতাহার হোসেন তালুকদার এমএলএ, মরহুম আব্দুল মোমিন তালুকদার এমএলএ, সৈয়দ হায়দার আলী এমপিএ, মরহুম রওশনুল হক এমপিএ, আনোয়ার হোসেন রতু, মরহুম শহিদুল ইসলাম তালুকদার, মরহুম আমির হোসেন ভুলু, মরহুম আব্দুল লতিফ মির্জা, আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, আব্দুস সামাদ, ইসমাইল হোসেন, জহুরুল ইসলাম তালুকদার, গোলাম হায়দার খোকা, আবু মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, মোজাফ্ফর আহমেদ, ইসাহাক আলী, এম এ রউফ পাতা, বিমল কুমার দাস, শেখ আলাউদ্দিন, সোহরাব আলী, আমজাদ হোসেন মিলন, লুৎফর রহমান অরুণ, খ ম আকতার হোসেন, ফজলুল মতিন মুক্তা, টি এম শামীম পান্না, মরহুম শাহ্জাহান আলী তারা, মরহুম ইসমাইল হোসেন, শফিকুল ইসলাম শফি প্রমুখ।

 অর্থনৈতিক অবস্থা

সিরাজগঞ্জ জেলার অর্থনৈতিক অবস্থা যথেষ্ট সমৃদ্ধ এবং সম্ভাবনাময়। এখানকার জনসাধারণের আয়ের প্রধান উৎসসমূহ হচ্ছে কৃষি, তাঁতশিল্প, বস্ত্রশিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, মৎস্য চাষ, দুগ্ধশিল্প, মৃৎশিল্প, কুটির শিল্প ইত্যাদি। জনসাধারণের প্রায় সকলেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। এছাড়া তাঁত সমৃদ্ধ হওয়ায় জেলার প্রায় সকল উপজেলাতেই বিপুল পরিমাণে তাঁত বস্ত্র উৎপাদন হয়। এ সকল তাঁত শিল্পের সাথে জড়িত সূতা ও বস্ত্র কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে এ জেলায় বিরাট অংকের আর্থিক লেনদেন সংঘটিত হয়। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ দুগ্ধ ও দুগ্ধজাতপণ্য উৎপাদন কারখানা মিল্কভিটা এ জেলায় অবস্থিত। এ কারখানাকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক গবাদি পশু পালন করা হয়। যার সাথে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জনগোষ্ঠির জীবন জীবিকা জড়িত। এ জেলার শাহজাদপুর উপজেলায় বাঘাবাড়ি নৌ-বন্দর অবস্থিত। সেখানে ভাসমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সিমেন্ট কারখানাসহ পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থের ডিপো অবস্থিত। এসকল স্থাপনায় ব্যাপক সংখ্যক শ্রমিক নিয়োজিত থেকে তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করছে। যমুনা নদী ও চলনবিল অধ্যূষিত এ জেলায় বিপুল সংখ্যক বড় বড় আকারে দীঘি ও পুকুর বিদ্যমান। ফলে জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মৎস্য চাষ, আহরণ, ক্রয়-বিক্রয় এর মাধ্যমে তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। সব মিলিয়ে এ জেলার জনসাধারণের জীবন জীবিকা বৈচিত্র্যময় তবে জেলার ৫টি উপজেলা নদীর তীরবর্তী হওয়ায় এবং সে সকল উপজেলার ২০টির মত ইউনিয়ন নদীর চরাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় নদীর তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের এ সকল লোকজন প্রতি বছরই নদী ভাঙ্গন ও বন্যার সম্মুখীন হয়। ফলে নদী ভাঙ্গন, বন্যা, খরা ইত্যাদি প্রাকৃতিক দূর্যোগ এ জেলার জনসাধারনের নিত্যসঙ্গী। এ সকলের ভারে এ এলাকার জনসাধারণ জর্জরিত। ফলে জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দরিদ্র ও বেকার।


সাহিত্য ও সংস্কৃতি

সাহিত্য ও সংস্কৃতি চেতনার বহিঃপ্রকাশ। এই প্রকাশ নানাভাবে নানা খাতে প্রবাহিত হয়। সাহিত্য সংস্কৃতির ধারা একদিনে গড়ে উঠে না। যুগ-যুগান্তরের মিলন ও একাত্মতা একে সার্থক ও সমম্বিয়ত করে। বিভিন্ন জেলা ও মহকুমায় তা লক্ষ্য করা যায়। সাহিত্যের ক্ষেত্রে সিরাজগঞ্জের সম্পর্ক রংপুর, বগুড়া, পাবনা সদর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর ও খুলনার সংগে। যাতায়াত ও ব্যবসা বাণিজ্য জনিত কারনেই এই যোগাযোগ চলছে বা চলে আসছে। অধুনা রাজশাহী ও নবাবগঞ্জের সাথে রেল সংযোগ থাকায় যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে। রংপুর, বগুড়া, পাবনা ও কুষ্টিয়ার লোক সাহিত্য, ফকিরী, মুর্শিদী, মারফতী গান-গজল, লোক কাহিনী প্রভৃতির মধ্যে একটা স্বতন্ত্র ভাব লক্ষ্য করা যায়। এই স্বতন্ত্রতা বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী-নাটোরের প্রভাবমুক্ত। এই ভাবধারা পাশাপাশি চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। রংপুর, বগুড়া, পাবনা, কুষ্টিয়া বলয়ের সাহিত্য সংস্কৃতি ভিন্ন গতিপ্রকৃতি বিশিষ্ট, ইসলামী চিমত্মা ধারার প্রতিফলন এতে বেশী স্পষ্টতর হয়। সাহিত্য, সংস্কৃতির এই প্রবাহ যদিও তর্কাতীত নয়, তবু দৃশ্যমান ও প্রকট স্বতন্ত্র ও বৈশিষ্ট্য স্বীকার্য সত্যরূপে প্রতীয়মান। সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্যের মধেই সম্বনয় সাধন প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে ও থাকা দরকার। সিরাজগঞ্জের নাটকের স্থান পূর্ব থেকেই উন্নত, এখনও এখানে নাটক, যাত্রা অভিনীত হয় বেশী। কলিকাতার বিখ্যাত নটরাজ ছবি বিশ্বাসের বাড়ী সিরাজগঞ্জ থানার বাগবাটি গ্রামে ছিল। প্রখ্যাত আইনজীবি অমিত বাবু ছিলেন নাটক প্রিয়। এখনও বহু নাট্যকার বর্তমান। পূর্বের নাট্যশালা এখন পৌর মিলনায়তনে পরিবর্তিত হয়েছে। এখানেও নাটক মঞ্চস্থ হয়। অন্যান্য স্থানের মত সিরাজগঞ্জের কবিতা চর্চা অনেক বেশী। যখনই কোন পর্ব আসে, তখন কবিতার ঢল নামে। এখন ছন্দের প্রতি অনুরাগ নাই। আধুনিক কবিতার প্রতি অনুরাগ বেশী। তদুপরি কবিতার অবোধ্য, দুর্বোধ্য ভাষা ও শব্দ সংযোজনের প্রবণতা লক্ষ্যণীয় সিরাজগঞ্জের সাহিত্য সংস্কৃতির ধারা প্রবাহমান রাখতে চেষ্টা করছে শহর ও পল্লীর বিভিন্ন সাহিত্য-পত্র পত্রিকা, সাময়িকী এবং প্রবীণ ও তরুন কবি সাহিত্যিকগণ ও শিল্প সাহিত্য সংবাদ ও গোষ্ঠী। তন্মধ্যে যমুনা সাহিত্য গোষ্ঠী, উদিচী, বাস্কার শিল্পী চক্রের নাম উল্লেখযোগ্য

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১১

সিরাজগঞ্জ জেলা পরিচিতি

সিরাজগঞ্জ জেলা ২৪০০' - ২৪৪০' পশ্চিম অক্ষাংশে এবং ৮৯২০' - ৮৯৫০' পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত । এ জেলার দক্ষিণে পাবনা, উত্তরে বগুড়া, পূর্বে টাঙ্গাইল ও জামালপুর, পশ্চিমে পাবনা, নাটোর ও বগুড়া জেলা অবস্থিত। এ জেলার আয়তন ২৪৯৭.৯২ ব: কি.মি.। তাঁত শিল্প এ জেলাকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করেছে। বঙ্গবন্ধু সেতু এবং সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধের অপূর্ব সৌন্দর্য এ জেলাকে পর্যটন সমৃদ্ধ জেলার খ্যাতি এনে দিয়েছে। তাছাড়া শাহজাদপুর উপজেলার রবীন্দ্র কাচারীবাড়ী, এনায়েতপূর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ এ্যান্ড হাসপাতাল, মিল্কভিটা, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্তের ইকোপার্ক, বাঘাবাড়ী বার্জ মাউনন্টেড বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, বাঘাবাড়ী নদী বন্দর ইত্যাদি বিখ্যাত স্থাপত্য ও শৈল্পকর্মের নিদর্শন এ জেলাকে সমৃদ্ধতর করেছে।
 বেলকুচি থানায় সিরাজউদ্দিন চৌধুরী নামক একজন ভূস্বামী (জমিদার) ছিলেন। তিনি তার নিজ মহালে একটি ‘গঞ্জ’ স্থাপন করেন। তার নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় সিরাজগঞ্জ। তাঁর নামে নামকরণকৃত সিরাজগঞ্জ স্থানটি নদীভাঙ্গণে বিলীন হয়। পরবর্তীতে তিনি ভুতের দিয়ার মৌজা নিলামে খরিদ করেন। তিনি ভুতের দিয়ার মৌজাকেই নতুনভাবে ‘সিরাজগঞ্জ’ নামে নামকরণ করেন। ফলে ভুতের দিয়ার মৌজাই ‘সিরাজগঞ্জ’ নামে স্থায়ী রূপ লাভ করে।
 ভৌগোলিক কারণেই বন্যা, খরা, নদী ভাঙ্গনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ জেলার জনসাধারণ জর্জরিত। এ সকল কারণে জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দরিদ্র ও বেকার। এ জেলার বেশিরভাগ লোক কৃষি ও তাঁত শিল্পের উপর নির্ভরশীল। তাছাড়া এ জেলার একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।  

বগুড়া জেলার ভৌগলিক প্রোফাইল


Ae¯’vb:89.00 wWwMÖ c~e© †_‡K 89.40 wWwMÖ c~e© `ªvwNgvsk Ges 24.30 wWwMÖ DËi †_‡K 25.10 wWwMÖ DËi A¶vs‡k e¸ov †Rjv Aew¯’Z|
mxgvbv:Dˇi MvBevÜv I RqcyinvU †Rjv,`w¶‡b bv‡Uvi I wmivRMÄ †Rjv,c~‡e© Rvgvjcyi I wmivRMÄ †Rjv Ges cwð‡g RqcyinvU I bIMuv †Rjv|
MoZvcgvÎv:m‡ev”P© 34.6 wWwMÖ †m. Ges me©wbgœ 11.9†m.
Mo e„wócvZ: evrmwiK 1610 wg.wg.
AvqZb, RbmsL¨v I Ab¨vb¨ Z_¨:
1.AvqZb:2898 eM© wK.wg.
2.‡gvU RbmsL¨v:30,13,056 Rb
                   cyiæl:15,46,341Rb
                   gwnjv:14,65,715 Rb|
3.†gvU †fvUv‡ii msL¨v:21,72,957 Rb
                           cyiæl:10,62,957 Rb
                           gwnjv:11,09,878 Rb
                          (A‡±vei,2009 ch©ন্ত)
4.Dc‡Rjv:12wU|
5.wbe©vPbx GjvKv:7wU|
6._vbv:12wU|
7.†cŠimfv:11wU|
8.BDwbqb:109wU|
9.MÖvg:20695|
10.wmwU K‡c©v‡ikb:bvB|
11.¯‹zj:miKvix-05wU,†emiKvix-350wU|
12.cÖvBgvix ¯‹zj:miKvix-961wU,†emiKvix-533wU|
13.K‡jR:miKvix-7wU,†emiKvix-76wU|
14.†gŠRv:1759wU|
15.b`x:15wU|
16.nvUevRvi:237wU|
17.†gvU Rwg:230039†n±i|
Abvev`x Rwg:226797 †n±i
19.BDwbqb Awdm:98wU|     
20.cvKv iv¯Ív:539.71 wK.wg.|
21.KuvPv iv¯Ív:37.wK.wg|
22.Avkªqb cÖKí:36wU|
23.Avevmb cÖKí:13wU|
24.Av`k© MÖvg:-1-24wU,
          cÖKí:-2-30wU|
25.wk¶vi nvi: 53%

বগুড়া জেলার নামকরন


evsjv‡`‡ki DËiv‡ji cÖ‡ekØvi GK HwZn¨evnx cÖvPxb Rbc`|‡cŠiwbK Ges cÖvPxbKv‡ji,BwZnv‡m e¸ov `Lj K‡i Av‡Q GK MyiZ¡c~b© ¯’vb|cÖvPxb cyÛª iv‡R¨I ivRavbx cyÛªea©bB n‡”Q G e¸ov †Rjv|‡gŠh©,¸ß,cvj,†mb cÖf„wZ ivRv‡`i cÖkvmwbK †K›`ª wQj cÖvPxb Rbc` e¸ov|e¸ovi bvgKi‡bi BwZnvm m¤ú‡K© hv Rvbv hvq Zv nj ,myjZvb wMqvm DwÏb eje‡bi cyÎ myjZvb bvwmi DwÏb eMiv Lvb 1279 ‡_‡K 1882 mvj ch©š— G A‡ji kvmK wQ‡jb|Zuvi bvgvbymv‡i G A‡ji bvg ivLv n‡q‡Q|

রবিবার, ডিসেম্বর ০৫, ২০১০

Bangladeshi Magazines

Bangladeshi Magazines - Bangla & English
Ananda Alo
Anannyaundefined
Bangladesher Kehlaundefined
Canvasundefined
Computer Jagatundefined
e-Bizundefined
Holidayundefined
KhoborerAntoraleyundefined
Manchitroundefined
Nishorgaundefined
ParabassParabass
PC Worldundefined
Priyobanglaundefined
Rahasya Patrika
Shaptahik 2000undefined
Unmad
UtsabUtsab
Weekly Ekhon

Bangladeshi Newspapers

Bangladeshi Newspapers - Bangla
Amader Shomoy
Amar Desh
Akhon Samoyundefined
bdnews24.comundefined
Bhorer Kagojundefined
Destinyundefined
Dhaka Post
Inquilabundefined
Ittefaq
Janakantha
Janata
JaiJaiDin
Jugantor
Kaler Kanthoundefined
Manavzamin
Naya Digantaundefined
Prothom Aloundefined
RTNNundefined
Sangramundefined
Sonar BanglaSonar Bangla
ShamokalShamokal
SangbadDaily Sangbad
Regional Newspapers - Bangla
Dainik Azadi

Bangladeshi Newspapers - English


 

Bangladesh JournalThe Bangladesh Journal
Bangladesh Observerundefined
Bangladesh Today Bangladesh Today
Daily Star The Daily Star
Financial Express
Nation Online The New Nation
New AgeThe New Age
News from Bangladesh News from Bangladesh

Free Bangladesh Internet TV

Free Bangladesh Internet TV

Channel NameBitrateUpdate DateType
Bangla TV37 K2006-07-18 04:47:15Watch Bangla TV Free Internet TV

Software Farm

Bangladesh Association of Software & Information Services
Basis, the trade association of Software and IT Enabled Service (ITES) providers in Bangladesh was formed in . Working closely with the relevant stakeholders in development of local and international market for different ICT services.
http://www.basis.org.bd


Bijoy Ekushe
Bangla writing software and graphics and multimedia software.
http://www.bijoyekushe.net


Imagine Technologies BD. (Pvt.) Limited
Imagine Technologies BD Pvt. Ltd (ITL) was launched in and is a subsidiary of Scholastica Group.
http://www.imaginebd.com 


Free Unicode Based Bangla Computing and Typing solution
Unicode Based Bangla Computing and Typing solutions for Windows and Linux. Ekusheyr Shadhinota: An Open Source Unicode Bangla Keyboard Manager project allows you to type with Unicode Open Type Bangla fonts in Windows NT/2000/XP/2003.
http://www.ekushey.org
  
Etech Systems
Etechbd offers all kind f website & software development related services, like webpage accounting, inventory, sales, purchase, stock & payroll management software.
http://www.etechbd.com

Zed n zed IT
Zedandzed IT Services Ltd. is a professional IT company based in Dhaka and Chittagong that offers website design & development, database driven web based application , portal, e-commerce, etc.
http://www.zednzedit.com

Computer Network Systems Ltd. (CNS)
CNS Limited has crossed its arduous journey of being an industry leader as a Total IT Solution Provider.
http://www.cnsbd.com

Computer Internet Service Providers

Banglalion
A company for internet service provider in cheaply and all kinds of IP related solution. Wimax, Broadband Internet anywhere.
http://www.banglalion.com.bd

  Internet service providers association Bangladesh
To promote, protect and safeguard the interest of all the members of the Association. To encourage and assist in the balanced development of the Internet Service business in Bangladesh.
http://www.ispa.org.bd

 
Qubee
Qubee is a new and exciting company from Augere providing fast and reliable broadband internet services to residential and business customers across Bangladesh. Wimax.
http://www.qubee.com.b


Access Telecom (BD) Ltd.
Leading Broadband Internet Service Provider based in Dhaka, Bangladesh.
http://www.accesstel.net

Bijoy, ISP in Bangladesh
Bijoy Online Ltd is one of the leading Internet Service Provider (ISP) in Bangladesh. Bijoy Online (BO) has started its operation in the year 1999 with the commitment of quality internet service at an affordable price.
http://www.bijoy.net 

Bangladesh Online Ltd
BOL is the largest and fastest online Internet Service Provider in Bangladesh. We provide a variety of email, web hosting, web page creations and network solutions. Our ISP has more telephone lines than any other provider in Bangladesh.
http://www.bol-online.com

Intech Online Ltd.
IOL is Bangladeshs premier online Internet Service Provider. We provide a variety of broadband services, email, web hosting, web page creations and network solutions.
http://www.intechworld.net


Agni Systems Ltd.
Voted best ISP by Bangladesh user community. We are the peoples favorite ISP.
http://www.agni.com

Dhakacom Limited
The company was formed in 1997. After a long way of setting up the company and creating it’s ground, now it is starting full blown services.The company is formed with the best technological advances and equipment to provide some services in this country.
http://www.dhakacom.com

Neksus
Broadband internet service provider.
http://www.neksus.com 

Information Services Network - ISN
First online internet service provider in Bangladesh.
http://www.bangla.net

IDS Bangladesh (ISP in bangladesh)
Isp offering Dialup Internet (Pre-paid & Post-paid), Broadband Internet (Wireless & DSL), Network for Office Automation, Web development & Design, Domain Name Registration and Hosting.
http://www.idsbd.net 

Dhaka Broadband Limited
Dhaka Broadband Network Ltd.(DBN)has been set up with the objective of providing best value data, voice and video solution for the Internet. . NOC is equipped with state of the art Equipment.
http://www.dbn-bd.net

Grameen Cybernet Ltd.
Grameen CyberNet Ltd has been Bangladesh’s leader in Internet service since it commenced operation in July 1996.
http://www.citechco.net

Dhaka Telecom
Dhakatel is a popular and technically sound Internet Service Provider (ISP) in Bangladesh. We deliver the world at the finger tips of our clients so far internet connectivity would allow.
http://www.dhakatelecom.com

Techno Online Limited
Techno online Ltd. was set up with two simple goals; providing low cost Internet Access, web design and hosting for all and to increase the awareness of the latest Internet Technology in Bangladesh.
http://www.techno-bd.net

ConnectBd Limited
ConnectBD Ltd was formed at the turn of the millennium to offer consumers a more productive and enjoyable Internet experience, from the most affordable VSAT connectivity to the most sophisticated on-line support in the business.
http://www.connectbd.com 

Sylhet Communication System
Internet service provider in Sylhet, dedicated to delivering the world through fax, video, data and Internet and provides high-tech communication products, superb engineering, quality installation and prompt customer support.
http://www.scslbd.com



Sirius Broadband
Broad band wireless internet connection in Dhaka Bangladesh. Fast always connected service, excellent for home or office.
http://www.siriusbroadband.com

Inetbd
Internet Bangladesh, from M. B. Telecom Ltd., brings in wireless & cable connectivity to deliver faster internet services to corporate and home users of Bangladesh.
http://www.inetbd.com

Internet Service & E-Commerce

Title  1 Net Technology Ltd.
Address
1/10, Block # A, Lalmatia
City Dhaka - 1207
Country Bangladesh
Telephone +880-2-9121393
Fax +880-2-9121393
    Send Email / Query


 


Title  Access Telecom (BD) Ltd.
Address
Suite-904, Concord Tower, 113, Kazi Nazrul Islam Avenue
City Dhaka - 1000
Country Bangladesh
Telephone +880-2-9335607-10
Fax +880-2-9335611
    Send Email / Query


 


Title  Bangladesh Info. Com. Limited
Address
Iqbal Center (5th floor), 42, Kamal Ataturk Avenue, Banani
City Dhaka
Country Bangladesh
Telephone +880-2-8820451-7
Fax +880-2-8820455
    Send Email / Query


 


Title  Bdjobs.com Ltd.
Address
BSRS Bhaban (8th floor west), 12 Kawran Bazar
City Dhaka - 1215
Country Bangladesh
Telephone +880-2-9117179, 9140345
Website http://www.bdjobs.com
    Send Email / Query


 


Title  Brac BD Mail Network
Address
Aarong Bhaban (18th floor),65-66 Mohakhali C/A
City Dhaka
Country Bangladesh
Telephone +880-2-9883978, 9883981, 9884635
Fax +880-2-9884587
Website http://www.bdmail.net
    Send Email / Query


 


Title  CNS Cyber Cafe
Address
64/6, Lake Circus, West Panthapath, (2nd Floor), Dhanmondi
City Dhaka
Country Bangladesh
Telephone +880-2-9134374
    Send Email / Query


 


Title  Corona Skyweb (BD) Ltd.
Address
86, Inner Circular VIP Road, (5th Floor), Nayapaltan
City Dhaka - 1000
Country Bangladesh
Telephone +880-2-8312104, 8317452, 9350470
Fax +880-2-9342973, 9333764
    Send Email / Query


 


Title  Cyber Dive Ltd.
Address
7/1/A North Dhanmondi, (5th Floor), lake Circus, Kalabagan
City Dhaka
Country Bangladesh
Telephone +880-2-9118744
    Send Email / Query


 


Title  Datanet Corporation Ltd.
Address
19/2, West Panthapath, (2nd Floor)
City Dhaka - 1215
Country Bangladesh
Telephone +880-2-9113232, 9113112, 9111284
Fax +880-2-9128526
    Send Email / Query


 


Title  Dhakar Chithi
Address
House # 13/A, Road # 3, Dhanmondi
City Dhaka
Country Bangladesh
Telephone +880-2-8619237
Fax +880-2-8621644
    Send Email / Query


 


Title  Drik Picture Library Ltd.
Address
House # 58,Road # 15A (New) Dhanmondi R/A
City Dhaka - 1209
Country Bangladesh
Telephone +880-2-8112954
Fax +880-2-8613470, 8617647
    Send Email / Query


 


Title  E-Planet (Pvt.) Ltd.
Address
House # 504, Road # 34, New DOHS, Mohakhali
City Dhaka
Country Bangladesh
Telephone +880-2-9882500
    Send Email / Query


 


Title  Fastnet Service
Address
156,Dr. Kutdrat -e-Khoda Road, Hatirpool
City Dhaka - 1205
Country Bangladesh
Telephone +880-2-9660529
Fax +880-2-8823099
    Send Email / Query


 


Title  Global Information Network (BD) Ltd
Address
House # 245/A, Road # 2, CDA R/A, Agrabad
City Chittagong
Country Bangladesh
Telephone +880-31-726315-7
Fax +880-31-726501
    Send Email / Query


 


Title  Global Online Services
Address
Safura Tower, ( 12th Floor) 20, Kemal, Ataturk Avenue
City Dhaka - 1213
Country Bangladesh
Telephone +880-2-8820451
Fax +880-2-8820455
Website http://www.bangladeshinfo.com
    Send Email / Query